নরেন্দ্র দাভোলকরের শহীদ হওয়ার ৭ বছর

ঠিক ৭ বছর । এখনো তদন্ত শেষ হয়নি। নরেন্দ্র দাভোলকর পুনেতে তার বাসভবনের সামনেই প্রাতঃভ্রমণে বেড়িয়ে দুজন বাইকআরোহীর পিস্তলের গুলিতে খুন হন। ২০১৩ এর ২০ অগাস্টে দাভোলকার, ফেব্রুয়ারি ২০১৫তে সিপিআই নেতা ও যুক্তিবাদী আন্দোলনের নেতা গোবিন্দ পানসারে, ঐ বছরের অগাস্টেই কন্নড যুক্তিবাদী শিক্ষাবিদ এমএম কালবুর্গি, ২০১৭ এর শিক্ষক দিবসের দিনে গৌরি লঙ্কেশ খুন হন। পরপর এই আক্রমণের লক্ষ্য ছিলেন যুক্তিবাদীরাই। আক্রমণকারী কারা? অবশ্যই যুক্তিহীন উগ্রহিন্দুত্ববাদীরা ।

পেশায় চিকিৎসক নরেন্দ্র দাভোলকার ৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে মহারাষ্ট্র জুড়ে কুসংস্কার বিরোধী আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দান করেন মহারাষ্ট্র অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতি (MANS) স্থাপন করে। নিজের পেশা ছেড়ে দিয়ে পুরোপুরি যুক্ত হয়ে যান এই কুসংস্কার বিরোধী আন্দোলনের সাথে। মহারাষ্ট্রে কুসংস্কার বিরোধী আইন স্থাপনের জন্য তিনি দীর্ঘ লড়াই আন্দোলনে বন্ধুর পাশাপাশি বহু শত্রুও তৈরি করে ফেলেন নিজের অজান্তেই। তাঁর প্রাণনাশের আশঙ্কার কথা জানার পরেও তিনি সরকারি নিরাপত্তা নিতে অস্বীকার করেছিলেন।

স্বাধীন চিন্তার বিকাশে তাঁর সম্পাদিত মারাঠী সাপ্তাহিক পত্রিকা "সাধনা" -এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। দাভোলকার কুসংস্কার বিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি জনবিজ্ঞান আন্দোলনেরও ছিলেন অগ্রণী সেনাপতি। মানুষের মধ্যে বৈজ্ঞানিক মনন (scientific temper) গঠনের কাজে তিনি নিয়োজিত ছিলেন।

বম্বে হাইকোর্টের এক রায়ের ভিত্তিতে ২০১৪ সালে মহারাষ্ট্র পুলিশের হাত থেকে তদন্তের ভার সিবিআই এর হাতে তুলে দেওয়া হয়। সনাতন সংস্থা নামক এক উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের একাধিক সংগঠকের নাম অভিযুক্তের তালিকায় উঠে আসে যাদের বিরুদ্ধে পানসারে ও গৌরো লঙ্কেশ হত্যার অভিযোগও আছে। কিন্তু অন্যান্য তদন্তের মত এক্ষেত্রেও সিবিআই ৭ বছরেও এই খুনের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে চার্জশীট জমা করতে পারেনি ।


শেয়ার করুন

উত্তর দিন