আফগান সঙ্কট কেন? শমীক লাহিড়ী

দ্বিতীয় পর্ব

মৌলবাদীদের ক্ষমতা দখল


১৯৯২ সালে পাকিস্তান-আমেরিকা-সৌদি আরবের মদতপুষ্ট সশস্ত্র মুজাহিদীন এবং অন্যান্য ইসলামিক মৌলবাদী গোষ্ঠী কাবুল দখল করে এবং আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে। তারা বুরহান্নুদিন রাব্বানি’কে নতুন ইসলামিক রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি হিসাবে ঘোষনা করে।
১৯৯৫ সালে সশস্ত্র ইসলামিক মৌলবাদী বাহিনী ‘তালিবান’ ক্ষমতা দখল করে এবং ইসলামিক আইনের নামে মহিলাদের সমস্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। বহু মানুষকে নির্বিচারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ১৯৯৬ সালে ২৭শে সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ড: নাজিবুল্লাকে রাষ্ট্র সংঘের কাবুলস্থিত দপ্তর থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে প্রকাশ্য রাস্তায় নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করে ল্যাম্পপোষ্টে ঝুলিয়ে রাখা হয়।


ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন বিন লাদেন

২০০১ সালে ১১ই সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কের ট্যুইন টাওয়ার্স, ওয়াশিংটনস্থিত পেন্টাগনে সন্ত্রাসবাদী হামলা চালায় আল কায়দা। নিজের তৈরী ফ্রাঙ্কেনস্টাইন আল কায়দার সন্ত্রাসবাদী হামলার পর আমেরিকার টনক নড়ে। ৭ই অক্টোবর থেকে আমেরিকা এবং ব্রিটেন যৌথভাবে আফহানিস্তানস্থিত তালিবানদের ঘাঁটির ওপর আক্রমণ চালায়। ৭ই ডিসেম্বর তালিবান শাসন থেকে আফগানিস্তান মুক্ত হয়।


নির্বাচন ও পুতুল সরকার

২০০১ সালের ২২শে ডিসেম্বর হামিদ কারজাই আফগানিস্তানের অর্ন্তবর্তীকালিন সরকারের প্রধান হন আমেরিকা এবং ব্রিটেনের মদতে। ২০০৪ সালের জানুয়ারী মাসে নতুন সংবিধান তৈরী হয় এবং অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কারজাই সেই দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তবে এই নির্বাচনে দেশের মাত্র ২০% মানুষ অংশগ্রহন করে। ২০০৫ সালে আফগানিস্তানের সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর পর থেকে আমেরিকা ও ন্যাটো সমর্থিত সরকারই আফগানিস্তান পরিচালনা করেছে ২০২১ সালের ১৫ই আগষ্ট পর্যন্ত।


এই হলো আফগানিস্তানের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।


তালিবান তৈরী করলো কারা


১৯৭৯ সালে ইসলামিক মুজাহিদীনরা যুদ্ধ শুরু করে সোভিয়েত বাহিনীর সাথে। প্রখ্যাত ব্রিটিশ অধ্যাপক ও ঐশলামিক ইতিহাসের গবেষক ক্যারোল হিলেনব্র্যান্ড মতে – পশ্চিমী দুনিয়া তালিবানদের গোড়া থেকেই সমর্থন করে এসেছে সোভিয়েত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য তৎকালীন দক্ষিণ ও মধ্য এশীয় বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্র সচিব, রবিন রাফেল, তালিবানদের সাথে যুক্ত হওয়ার প্রচেষ্টাকে দৃঢ় ভাবে সমর্থন করেছিলেন। তিনি ১৯৯৬সালের এপ্রিল এবং আগস্টে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান ভ্রমণের সময় তালিবানদের পাইপলাইন প্রকল্পকেও সমর্থন করেছিলেন। রাফেল আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, তালিবানরা কাবুল দখলের সাথে সাথেই তাদের সমর্থন করুন। তিনিই প্রথম মার্কিন উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্তা যিনি তালিবানদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি ১৯৯৬ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তালিবানদের কাবুল দখলকে “ইতিবাচক পদক্ষেপ” হিসেবে স্বাগত জানান। তালিবানের প্রতি তার প্রথম থেকেই ধারাবাহিক সমর্থন করায় তাঁকে সংবাদমাধ্যমে “লেডি তালিবান” নামে সম্বোধন করত।
সূত্রঃ ১) Sanchez, Raf “FBI searches home of former envoy labelled ‘Lady Taliban’ “. Telegraph (7 November 2014). ২) Coll, Steve (2004). Ghost Wars: The Secret History of the CIA, Afghanistan, and Bin Laden, from the Soviet invasion to September 10, 2001. Penguin Books. pp. 334–335, ৩) Swami, Praveen “Lead West’s romancing of the Taliban”. The Hindu, 18 January 2012, ৪) Porter, Tom “FBI Investigates US Diplomat Dubbed ‘Lady Taliban’ over Secrets Leak”. International Business Times, 21 November 2014।


অপারেশন সাইক্লোন


১৯৭৯-১৯৮৯ এই সময়ে আমেরিকার কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা CIA আফগানিস্তানে মুজাহিদীনদের ব্যাপক পরিমানে অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহ করে এবং সামরিক প্রশিক্ষণে সাহায্য করে। এই গোপন অপারেশনের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সাইক্লোন’। এছাড়া ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা M16-ও একইভাবে এদের সাহায্য করে।
অপারেশন সাইক্লোন CIA এর ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী এবং ব্যয়বহুল গোপন অপারেশন। ১৯৭৯ সালে এই অপারেশন শুরুর সময়ে ৬লক্ষ ৯৫হাজার মার্কিন ডলার সরকারিভাবেই বরাদ্দ করা হয়। পরের বছরই এই ব্যয় বরাদ্দ বেড়ে হয় ২০-৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ১৯৮৭সালে এই খরচ বেড়ে হয় ৬৩০মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রতি বছর। সোভিয়েত সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের থেকে প্রত্যাহারের পরেও এই গোপন অর্থ সাহায্য চালিয়ে যাওয়া হয়।
সূত্রঃ ১) “Summary of Conclusions of a Special Coordination Committee Meeting”. history.state.gov. 23 October 1979. ২) Riedel, Bruce (2014). What We Won: America’s Secret War in Afghanistan, 1979–1989. Brookings Institution Press. pp. ix–xi, 21–22, 93, 98–99, 105।


CIA ও ষড়যন্ত্র

এই অপারেশনের অঙ্গ হিসাবেই খালক রাষ্ট্রপতি নূর মহম্মদ তারাকিকে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকান্ড সংগঠিত করে মুজাহিদীন নেতা হাফিজুল্লাহ আমিন। সোভিয়েত গোয়েন্দা সংস্থা এই সম্পর্কে তারাকি প্রশাসনক আগাম সতর্কবার্তা দিয়েছিল। অনেকেরই অভিযোগ এই হত্যাকান্ডের পেছনেও ছিল CIA, যদিও বরাবব্রের মতোই তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। একথা অজানা নয় যে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের হত্যার পেছনে CIA ঘৃণ্য ভুমিকা ছিল – যেমন চিলির রাষ্ট্রপ্রধান সালভাদর আলেন্দে (১৯৭৩), লিবিয়ার রাষ্ট্রপতি মহম্মদ গদ্দাফি(১৯৮৬), সার্বিয়ার রাষ্ট্রপতি স্লোভোদান মিলোসেভিচ (১৯৯৯),ইরাকের সাদ্দাম হোসেন (২০০৩)। কিউবার রাষ্ট্রপ্রধান ফিদেল কাস্ত্রোকে ১৯৫৯ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ৬৩৮ বার হত্যার চেষ্টা চালায় CIA। ১৯৬০ সালে কঙ্গোর প্রথম এবং বামপন্থী রাষ্ট্রপতি প্যাট্রিক লুমুম্বাকে হত্যার প্রয়াস সংক্রান্ত নথীও এখন প্রকাশিত হয়েছে। তাই তারাকিকে হত্যার পেছনে CIA এর ভূমিকা মোটেই সন্দেহের উর্দ্ধে নয়। এই নিয়ে অনেক বইও প্রকাশিত হয়েছে।
সূত্রঃ ১) Kaplan, Robert D. (2008). Soldiers of God: With Islamic Warriors in Afghanistan and Pakistan. Knopf Doubleday. pp. 115–117. ২) Kepel, Gilles (2006). Jihad: The Trail of Political Islam. I.B. Tauris. pp. 138–139, 142–144. ৩) Blight, James G. (2012). Becoming Enemies: U.S.-Iran Relations and the Iran-Iraq War, 1979-1988. Rowman & Littlefield Publishers. pp. 69–70.
সেই সময়ে অন্ধ সোভিয়ত বিরোধীতা থেকেই মৌলবাদীদের সাহায্য করতে কোটি কোটি ডলার খরচ করেছে মার্কিন সরকার। আবার অপরদিকে ইরানকে বিপদে ফেলার জন্য এই সময় পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান জেনারেল জিয়া-উল হকের সাথে হাত মেলা্ন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি জিমি কার্টার। মূলত পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ISI এর মাধ্যমেই অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহের কাজ চালায় CIA।
সূত্রঃ Riedel, Bruce (2014). What We Won: America’s Secret War in Afghanistan, 1979–1989. Brookings Institution Press. pp. ix–xi, 21–22, 93, 98–99, 105.
১৯৮১-৮৭ এই ৬ বছরে ৩.২ বিলিয়ন ডলার দিয়েছিল মার্কিন সরকার, যার অর্ধেক ছিল অস্ত্র সাহায্য। এছাড়াও ১৯৮৩-৮৭ সালের মধ্যে পাকিস্তানকে ৪০টা F-16 যুদ্ধবিমান দেয় আমেরিকা ১.২ বিলিয়ন ডলার মূল্যে। ১৯৮৭-৯৩ পরবর্তী ৬ বছরে আরও ৪.২বিলিয়ন মার্কিন ডলার সাহায্য করা হয়েছিল এই সশস্ত্র মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলিকে। এর মধ্যে ১.৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়া হয়েছিল শুধুমাত্র সামরিক অস্ত্র কেনার জন্য। এই সময়কালে মার্কিন ও সৌদি আরব সম্মিলিতভাবে ৬-১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সাহায্য করেছিল এদের। এই সব কথাই সেই সময়ের মার্কিন জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা ডঃ ব্রেজেজেনস্কি একটি সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছিলেন।
সূত্রঃ Interview with Dr. Zbigniew Brzezinski – Part 2. Episode 17. Good Guys, Bad Guys. 13 June 1997.

Brzezinski visits Osama bin Laden and other Mujahideen fighters during training.

সম্পূর্ণ লেখাটি ৩ টি পর্বে প্রকাশিত হয়েছে…

Add title

দ্বিতীয় পর্ব

মৌলবাদীদের ক্ষমতা দখল


১৯৯২ সালে পাকিস্তান-আমেরিকা-সৌদি আরবের মদতপুষ্ট সশস্ত্র মুজাহিদীন এবং অন্যান্য ইসলামিক মৌলবাদী গোষ্ঠী কাবুল দখল করে এবং আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে। তারা বুরহান্নুদিন রাব্বানি’কে নতুন ইসলামিক রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি হিসাবে ঘোষনা করে।
১৯৯৫ সালে সশস্ত্র ইসলামিক মৌলবাদী বাহিনী ‘তালিবান’ ক্ষমতা দখল করে এবং ইসলামিক আইনের নামে মহিলাদের সমস্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। বহু মানুষকে নির্বিচারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ১৯৯৬ সালে ২৭শে সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ড: নাজিবুল্লাকে রাষ্ট্র সংঘের কাবুলস্থিত দপ্তর থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে প্রকাশ্য রাস্তায় নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করে ল্যাম্পপোষ্টে ঝুলিয়ে রাখা হয়।


ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন বিন লাদেন

২০০১ সালে ১১ই সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কের ট্যুইন টাওয়ার্স, ওয়াশিংটনস্থিত পেন্টাগনে সন্ত্রাসবাদী হামলা চালায় আল কায়দা। নিজের তৈরী ফ্রাঙ্কেনস্টাইন আল কায়দার সন্ত্রাসবাদী হামলার পর আমেরিকার টনক নড়ে। ৭ই অক্টোবর থেকে আমেরিকা এবং ব্রিটেন যৌথভাবে আফহানিস্তানস্থিত তালিবানদের ঘাঁটির ওপর আক্রমণ চালায়। ৭ই ডিসেম্বর তালিবান শাসন থেকে আফগানিস্তান মুক্ত হয়।

২০০১ সালের ২২শে ডিসেম্বর হামিদ কারজাই আফগানিস্তানের অর্ন্তবর্তীকালিন সরকারের প্রধান হন আমেরিকা এবং ব্রিটেনের মদতে। ২০০৪ সালের জানুয়ারী মাসে নতুন সংবিধান তৈরী হয় এবং অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কারজাই সেই দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তবে এই নির্বাচনে দেশের মাত্র ২০% মানুষ অংশগ্রহন করে। ২০০৫ সালে আফগানিস্তানের সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর পর থেকে আমেরিকা ও ন্যাটো সমর্থিত সরকারই আফগানিস্তান পরিচালনা করেছে ২০২১ সালের ১৫ই আগষ্ট পর্যন্ত।


এই হলো আফগানিস্তানের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।


১৯৭৯ সালে ইসলামিক মুজাহিদীনরা যুদ্ধ শুরু করে সোভিয়েত বাহিনীর সাথে। প্রখ্যাত ব্রিটিশ অধ্যাপক ও ঐশলামিক ইতিহাসের গবেষক ক্যারোল হিলেনব্র্যান্ড মতে – পশ্চিমী দুনিয়া তালিবানদের গোড়া থেকেই সমর্থন করে এসেছে সোভিয়েত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য তৎকালীন দক্ষিণ ও মধ্য এশীয় বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্র সচিব, রবিন রাফেল, তালিবানদের সাথে যুক্ত হওয়ার প্রচেষ্টাকে দৃঢ় ভাবে সমর্থন করেছিলেন। তিনি ১৯৯৬সালের এপ্রিল এবং আগস্টে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান ভ্রমণের সময় তালিবানদের পাইপলাইন প্রকল্পকেও সমর্থন করেছিলেন। রাফেল আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, তালিবানরা কাবুল দখলের সাথে সাথেই তাদের সমর্থন করুন। তিনিই প্রথম মার্কিন উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্তা যিনি তালিবানদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি ১৯৯৬ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তালিবানদের কাবুল দখলকে “ইতিবাচক পদক্ষেপ” হিসেবে স্বাগত জানান। তালিবানের প্রতি তার প্রথম থেকেই ধারাবাহিক সমর্থন করায় তাঁকে সংবাদমাধ্যমে “লেডি তালিবান” নামে সম্বোধন করত।


সূত্রঃ ১) Sanchez, Raf “FBI searches home of former envoy labelled ‘Lady Taliban’ “. Telegraph (7 November 2014). ২) Coll, Steve (2004). Ghost Wars: The Secret History of the CIA, Afghanistan, and Bin Laden, from the Soviet invasion to September 10, 2001. Penguin Books. pp. 334–335, ৩) Swami, Praveen “Lead West’s romancing of the Taliban”. The Hindu, 18 January 2012, ৪) Porter, Tom “FBI Investigates US Diplomat Dubbed ‘Lady Taliban’ over Secrets Leak”. International Business Times, 21 November 2014।


১৯৭৯-১৯৮৯ এই সময়ে আমেরিকার কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা CIA আফগানিস্তানে মুজাহিদীনদের ব্যাপক পরিমানে অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহ করে এবং সামরিক প্রশিক্ষণে সাহায্য করে। এই গোপন অপারেশনের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সাইক্লোন’। এছাড়া ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা M16-ও একইভাবে এদের সাহায্য করে।
অপারেশন সাইক্লোন CIA এর ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী এবং ব্যয়বহুল গোপন অপারেশন। ১৯৭৯ সালে এই অপারেশন শুরুর সময়ে ৬লক্ষ ৯৫হাজার মার্কিন ডলার সরকারিভাবেই বরাদ্দ করা হয়। পরের বছরই এই ব্যয় বরাদ্দ বেড়ে হয় ২০-৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ১৯৮৭সালে এই খরচ বেড়ে হয় ৬৩০মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রতি বছর। সোভিয়েত সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের থেকে প্রত্যাহারের পরেও এই গোপন অর্থ সাহায্য চালিয়ে যাওয়া হয়।
সূত্রঃ ১) “Summary of Conclusions of a Special Coordination Committee Meeting”. history.state.gov. 23 October 1979. ২) Riedel, Bruce (2014). What We Won: America’s Secret War in Afghanistan, 1979–1989. Brookings Institution Press. pp. ix–xi, 21–22, 93, 98–99, 105।

এরপর অন্তিম পর্ব

তৃতীয় পর্বটি পড়তে এই লিংকে ক্লিক করুন

Spread the word

Leave a Reply