UP Election: Strategy Of BJP – RSS

উত্তরপ্রদেশ: ভোট এবং বিজেপির জনবাদ

modi
Gautam-Roy

গৌতম রায়

পাঁচটি রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা ভোটে জেতার প্রশ্নে হিন্দুত্ব অপেক্ষা ‘ জনবাদ’ , অর্থাৎ; জনসাধারণকে পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতির ভিতর দিয়ে খুশি করবার পথেই কি একটু বেশি ঝুঁকবে বিজেপি? উত্তপ্রদেশে গত পাঁচ বছরে অজয় বিশোয়াত , ওরফে স্বঘোষিত ‘ যোগী’ আদিত্যনাথের মুখ্যমন্ত্রীত্বকালে পাহাড়প্রমাণ প্রশাসনিক ব্যর্থতা সেইরাজ্যে সাধারণ মানুষের ভিতরে দলের গ্রহণযোগ্যতা কে প্রায় তলানিতে এনে ঠেকিয়েছে।জনপ্রিয়তার অবস্থাত তথৈবচ।আইন শৃঙ্খলার ভয়াবহ পরিস্থিতি অতি বড়ো বিজেপি সমর্থকের কাছে ও রাত আট টার পরে বাড়ির মহিলাদের রাস্তায় প্রয়োজনে বের হওয়া নিয়ে শঙ্কিত করে তোলে।সংখ্যালঘু, আদিবাসী, তপশিলি- জাতি উপজাতি- দলিত পুরুষদের ই কোনো নিরাপত্তা নেই।মেয়েরা তো কোন ছাড়।তার উপর গত দুইবছর যাবৎ কোভিড পরিস্থিতি এতোটাই ভয়াবহ করে তুলেছে শহর এবং গ্রামীণ উত্তরপ্রদেশের আর্থ- সামাজিক পরিস্থিতি যার মাশুল সদ্য সমাপ্ত পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপিকে বেশ ভালো ভাবেই দিতে হয়েছে।আর পঞ্চায়েত শাসক বিজেপির হাতের মুঠোর ভিতরে না থাকলে বিধানসভা ভোটে দলকে জেতাতো কতোটাই দুঃসহ তা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব খুব ভালো করেই জানে।

এই অবস্থায় জনবাদী নীতি , অর্থাৎ; যেকোনো উপায়ে নাগরিকদের সাময়িক কিছু সুযোগ- সুবিধা পাইয়ে দেওয়া , বিশেষ করে কিছু নগদ টাকা পাইয়ে দেওয়া- এইপথ ধরে উত্তরপ্রদেশে হাঁটতে শুরু করেছে বিজেপি। সাধারণ ভাবে গ্রামীণ উত্তরপ্রদেশে প্রথাগত শিক্ষার সুযোগ বেশ কম ।এখানকার মানুষ সাধারণ ভাবে কৃষির সঙ্গে জীবন জীবিকা কে সম্পৃক্ত করে রাখে।গ্রামীণ উত্তরপ্রদেশের কৃষি পরিকাঠামোতে আজ ও আধা সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থাই কায়েম আছে।কোনো কোনো জায়গাতে প্রায় অর্ধশতক আগে অবলুপ্ত জমিদারি প্রথার রেশ রয়ে গেছে।জাতপাতে বিদীর্ণ উত্তরপ্রদেশের গ্রামীণ পরিমন্ডলের সামগ্রিক পটভূমি।স্ত্রী শিক্ষার বিস্তার প্রায় নেই ই বলা যেতে পারে।ধর্মকে সেখানে উপস্থাপিত করা হয় ধর্মান্ধতার আবরণে।ফলে ধর্মকে অবলম্বন করে সামাজিক বিভাজন কে তীব্র করে তুলে রাজনৈতিক পরিবেশকে একটা ভয়ঙ্কর সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের অনুকূলে গোটা হিন্দুত্ববাদীরা নিয়ে এসেছে।

তা স্বত্ত্বেও আদিত্যনাথের সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতা , বিশেষ করে সাধারণ মানুষের প্রবল অর্থনৈতিক সঙ্কট, গ্রামীণ উত্তরপ্রদেশ থেকে যে বড়ো অংশের পুরুষেরা পরিযায়ী শ্রমিক হিশেবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কামকাজ করে সংসার চালাতেন, কোভিডের কারণে তাদের কাজ না থাকার ফলে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক সঙ্কট, গ্রামীণ দারিদ্রের সাম্প্রতিক ভয়াবহকতা – গোটা উত্তরপ্রদেশেই বিজেপিকে আসন্ন বিধানসভা ভোটে যে একটা বড় রকমের মুশকিলের ভিতরে ফেলতে চলেছে- এই আভাসটা এখন আর এস এস – বিজেপি নেতাদের কাছে ও আর গোপন নেই।ফলে ভোটের মুখে হিন্দুত্বের জিগির কে বল্গাহীন তারা করে তুলবে কি না- এই পূর্বাভাস এখনো না পাওয়া গেলেও এটা পরিস্কার হয়ে গিয়েছে যে, জনবাদ কে আশ্রয় করে , সাধারণ মানুষকে কিছু পাইয়ে থুইয়ে দিয়ে গত পাঁচ বছরে যোগী সরকারকে কেন্দ্র করে মানুষের ভিতরে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, সেইখান থেকে মানুষকে বের করে আনতে তারা সচেষ্ট হবে।বিশেষ করে গত দুই বছরে অতিমারী জনিত পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য ঘিরে সাধারাণ মানুষের যে প্রবল দুরবস্থা, কোভিডের প্রলয়ঙ্করকালে তীব্র অক্সিজেন সঙ্কট, হাসপাতালগুলিতে পরিকাঠামো জনিত অব্যবস্থা, এমন কি মৃতদেহের সৎকার ঘিরে চরম অব্যবস্থা, গঙ্গা সহ বিভিন্ন নদীতে কোভিডে মৃত মানুষদের লাশ ভেসে যাওয়ার দৃশ্যে সাধারণ নাগরিকদের ভিতরে তৈরি হওয়া প্রবল প্রতিক্রিয়া- এইসবের আশু মোকাবিলা না করতে পারলে আগামী বছরের গোড়ায় উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার যে ভোট হতে চলেছে, তাতে দুঃখ আছে বিজেপির– এটা গোটা হিন্দুত্ববাদী শিবির খুব ভালোভাবেই বুঝতে পেরে গিয়েছে।

আর এস এস এবং বিজেপির শীর্ষনেতাদের পরামর্শে উত্তরপ্রদেশ বিজেপির প্রাদেশিক নেতারা যোগী সরকারের মারফত ‘ স্বাস্থ্য কার্ড’ নাগরিকদের ছন্যে বরাদ্দ করেছে।ভারত সরকার যে ‘ আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালু করেছিল, অনেক রাজ্য সেগুলি গ্রহণ না করলেও উত্তরপ্রদেশ সরকার কিন্তু নিজেদের রাজ্যে সেই প্রকল্পটি চালু করেছিল।কিন্তু সেই প্রকল্পের সুফল স্থানীয় স্তরের বিজেপি নেতা এবং সরকারের নীচু তলার কর্মীদের বদান্যতায় সেভাবে ভূমিস্তরের নাগরিকদের কাছে পৌঁছায় নি।ফলে লকডাউন জনিত আর্থিক সমস্যার ভিতরে উত্তরপ্রদেশের অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষজনেরা কোভিডের চিকিৎসার ন্যুনতম সুযোগটুকুনিও কোনো ক্রমেই নিতে পারছে না। সরকার যেটুকু স্বাস্থ্য বাবদ সুযোগ সুবিধা দেয়, তা গ্রামীণ উত্তরপ্রদেশের মানুষ সেভাবে পান ই না।আর নাগরিকদের সুযোগ সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে এখন ও উত্তরপ্রদেশে ভয়ঙ্কর জাতপাতের বিচার চলে।বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় থাকার ফলে ধর্ম ভিত্তিক বিভাজন স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও অত্যন্ত ভয়াবহ হয়েছে।তাই এইসব ঘটনাপ্রবাহের ফলে সাধারণ মানুষের ভিতরে যে বিরাট রকম প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়া বইতে শুরু করেছে, বিজেপি তথা সঙ্ঘ নেতৃত্ব তা বেশ ভালো ভাবেই বুঝতে শুরু করেছে।সেই কারণেই ‘ আয়ুষ্মান ভারতে’ র পাশাপাশি পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্য বীমা করে সাধারণ মানুষের মন ভোলাতে উত্তরপ্রদেশে জোরদার চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি।

পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে ঠিক বিধানসভা ভোটের আগে ‘ স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড চালু করা হয়েছিল এবং সেই বাবদ অর্থ বরাদ্দের কোনো জায়গা বাজেটে ছিল না- উত্তরপ্রদেশেও ঠিক তেমনটাই ঘটছে।আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে থাকা স্বত্ত্বেও যোগী সরকারের ঝিমিয়ে পড়া ইমেজ কে চাঙ্গা করতে এই স্বাস্থ্য কার্ড চালু হয়েছে উত্তরপ্রদেশে।প্রাইভেট হাসপাতাল , নার্সিংহোম ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানগুলি এক ই ব্যক্তির একসঙ্গে কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত কার্ড এবং রাজ্যের স্বাস্থ্যকার্ড নিয়ে আসা রোগীর ক্ষেত্রে চরম বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছে।এই সুযোগে গরীব, প্রথাগত শিক্ষার সুযোগ না পাওয়া , মূলত গ্রামীণ উত্তরপ্রদেশের মানুষদের বোঝাচ্ছে যে, কেন্দ্র এবং রাজ্যের সরকারের যথেষ্ট সদিচ্ছা থাকা স্বত্ত্বেও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলি সরকারকে, অর্থাৎ; বিজেপিকে হেয় প্রতিপন্ন করবার উদ্দেশ্যেই আপনাদের সরকার প্রদত্ত স্বাস্থ্যবীমার সুযোগগুলো কোনো অবস্থাতেই দিচ্ছে না।

কোভিড পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার একাংশের মানুষদের বিনামূল্যে রেশনের সুযোগ দিয়েছে গত প্রায় দুই বছর হলো। উত্তরপ্রদেশের গ্রামাঞ্চলের মানুষ তো দূরের কথা, শহরের যেসমস্ত মানুষদের এই কেন্দ্রীয় সরকার প্রদত্ত বিনামূল্যে রেশন পাওয়ার সুযোগ আছে, যোগী সরকারের অপদার্থতায় তাঁরা সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। টেলিভিশন, মন কি বাত ইত্যাদির সুবাদে মোদি সরকারের বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার কথা সাধারণ মানুষের কানে পৌঁছচ্ছে।গ্রামের গরীবগুর্বের কানেও পৌঁছচ্ছে।অথচ রেশন দোকানে গিয়ে তাঁরা দেখছেন কিছু নেই।রেশন ডিলারটা এক্ষেত্রে নিজেদের স্বার্থেই  সাধারণ মানুষদের রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনিক আধিকারিকদের বিরুদ্ধে খানিকটা উসকে দিচ্ছে।রাজনৈতিক নেতারা অপরপক্ষে উসকে দিচ্ছে রেশন ডিলারদের বিরুদ্ধে।সাধারণ মানুষ কিন্তু এই পারস্পরিক দোষারপের ভিতর এই সহজ সরল সত্যটা ঠিক বুঝে উঠছে যে, তাঁরা তাঁদের হকের পাওনা পাচ্ছে না।ফলে সাধারণ মানুষ, জাতি- ধর্ম- বর্ণ- লিঙ্গ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে সরকার, শাসক দল তথা বিজেপির বিরুদ্ধে।

সাধারণ মানুষের , বিশেষ করে গরীবগুর্বো মানুষের বিজেপির উপর যে পেটের খিদে থেকে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে, সেই ক্ষোভ যে রাম- রহিমের জুদা দিয়ে ভোলানো যাবে না- এই সহজ সরল সত্যটি হিন্দু সাম্প্রদায়িক শিবির খুব ভালোভাবেই বুঝে উঠতে পেরেছে।তাই নীতিগতভাবে যে গণবন্টন ব্যবস্থার সঙ্গে বাজার অর্থনীতিকে মেলে ধরা বিজেপি আর কিছুতেই সহমত নয়, সেই রেশন ব্যবস্থা যাতে উত্তরপ্রদেশের গ্রাম এবং শহরে ভোটের মুখে সবরকম ত্রুটিমুক্ত হয়, সেইজন্যে তারা হঠাৎ করে অত্যন্ত বেশি রকমের তৎপর হয়ে উঠেছে।সঙ্ঘ কর্মীরা যাতে গ্রামীণ উত্তরপ্রদেশে এই রেশন বন্টন ব্যবস্থাটা খানিকটা হলেও নিজেরা তদারক হলে , সেই বিষয়ে সঙ্ঘ নেতৃত্বের কাছে বিজেপির নেতারা গত কয়েকদিন আগে লক্ষ্মৌ তে সঙ্ঘ- বিজেপির ভিতরে যে সমন্বয় বৈঠক হয়েছিল, সেখানে অনুরোধ করেছে।এই অনুরোধের ঘটনা থেকেই বুঝতে পারা যাচ্ছে যে, রেশন ব্যবস্থা বন্টনের ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে ঠিক কি ধরণের অব্যবস্থা চলছে উত্তরপ্রদেশে।

রেশন বন্টন ঘিরে এই অব্যবস্থার বিষয়টার একটা সাময়িক জোড়াতাপ্পি দেওয়া সমাধানের পথে এখন হাঁটতে শুরু করেছে বিজেপি।এই কাজে আর এস এসের সক্রিয় কর্মীদের কার্যত স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকাতে নামানো হয়েছে।রেশন বন্টন ঘিরে ভয়ঙ্কর অব্যবস্থা থেকে সাধারণ মানুষের ভিতরে একটা তথাকথিত সেবাব্রতের লেবাস দিয়ে, প্রধানমন্ত্রী মোদির জয়গান শুনিয়ে এই সঙ্ঘের সেচ্ছাসেবকেরা গ্রামীণ উত্তরপ্রদেশে কার্যত ‘ সেফ্টি ভালভে’ র ভূমিকা য় অবতীর্ণ হয়েছে। তবে সঙ্ঘকর্মীরা যতোই রেশন বন্টন ঘিরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে সাময়িক চাপা দেওয়ার চেষ্টা করুন না কেন, সেই চেষ্টাতে তারা যেভাবে রেশন ডিলারদের দায়ী করছে, আর নিজেদের নির্দোষ দেখাতে রেশন ডিলারেরা সব দায় যেভাবে শাসক বিজেপির সবস্তরের নেতাদের উপরে চাপিয়ে দিচ্ছে, তা আগামী বিধানসভা ভোটে বিজেপিকে কতোখানি সুবিধা করে দিতে পারবে- তা নিয়ে ওয়াকিবহাল মহল রীতিমতো সন্দীহান।

আদিত্যনাথের শাসনে প্রশাসনিক ব্যর্থতা এক একটা জায়গায় পৌঁছেছে যে , সাধারণ মানুষের ভিতরে বিজেপি সম্পর্কে আস্থা বজায় রাখতে সঙ্ঘ নেতৃত্ব মানুষের সঙ্গে সংযোগ পুনঃস্থাপনের উদ্দেশে ‘ পান্না প্রমুখ’ নিয়োগ করেছে।সঙ্ঘের অত্যন্ত গোপন এবং কার্যকরী একটি পদ হল এই ‘ পান্নাপ্রমুখ’ ।সঙ্ঘ নিজে বা তাদের কোনো শাখা সংগঠন বা রাজনৈতিক সংগঠন সামাজিক ক্ষেত্রেই হোক বা ভোট রাজনীতির নিরিখেই হোক যখন বড়ো রকমের কিছু বিপদের সামনে পড়ে, সেই বিপদ মোকাবিলা করবার উদ্দেশে, অনেকটা গোপন দক্ষ, প্রয়োজনে সশস্ত্র ভূমিকা নিতে পারার প্রশিক্ষণ যুক্ত এই বিশেষ স্কোয়াডটিকে আর এস এস পথে নামায়।

স্বাধীন ভারতে প্রথম এই ‘ পান্না প্রমুখ’ কে আর এস এস পথে নামিয়েছিল তাদের রাজনৈতিক সংগঠন হিন্দু মহাসভা কর্তৃক জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করবার পরে।তারপর এই ‘ পান্না প্রমুখ’ কে তারা পথে নামিয়েছিল ছয়ের দশকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রী যখন পাকিস্থানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রেক্ষিতে প্রজাতন্ত্র দিবসের সময়ে দিল্লির যান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব আর এস এস কে দিয়েছিলেন, সেই সময়ে।শাস্ত্রীজীর আহ্বানে আর এস এস গোটা কাজটাই সেইদিন করেছিল তাদের এই বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত স্কোয়াডের সাহায্যে।ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সময়কালেও এই ‘ পান্না প্রমুখ’ কে অত্যন্ত সক্রিয় ভাবে কাজে লাগিয়েছিল আর এস এস।

ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের ধ্বংসস্তুপের উপর তথাকথিত রামমন্দিরের শিলান্যাস করে হিন্দু সাম্প্রদায়িকতাকে সংখ্যাগুরুর আধিপত্যবাদের দিকে ঠেলে দেওয়ার পরেও উত্তরপ্রদেশে বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতা আজ এতোটাই প্রকট হয়ে উঠেছে যে, আগামী বছরের শুরুতে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার ভোটে বিজেপিকে জেতাবার প্রস্তুতি হিশেবে সংগঠনের এই গোপন স্কোয়াড ‘ পান্না প্রমুখ’ দের নিয়োগ করতে হচ্ছে আর এস এসের। উত্তরপ্রদেশে আসন্ন বিধানসভা ভোটকে কেন্দ্র করে বিজেপির ক্ষয়িষ্ণু জনসংযুগকে জিইয়ে তুলতে এই ‘ পান্না প্রমুখ’দের নিয়োগ করেছে আর এস এস।এইমুহূর্তে’ পান্না প্রমুখে’ রা বাড়ি বাড়ি জনসংযোগের কাজটি করছে বিজেপির হয়ে।শহর এবং গ্রাম উভয় ক্ষেত্রেই ভোটার তালিকা ধরে এই জনসংযোগের কাজটি ‘পান্না প্রমুখ’ কে দিয়ে আর এস এস করাতে শুরু করেছে।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য নরেন্দ্র মোদি গুজরাটের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কিছুদিন আগে সেখানে যে প্রলয়ঙ্কর ভূমিকম্প হয়েছিল, সেইসময়ে গুজরাটের তৎকালীন বিজেপি সরকার ত্রাণবন্টনের ক্ষেত্রে যেসব স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়োজিত করেছিল, তাদের ভিতর বেশিরভাগ ই ছিল আর এস এসের এই গোপন স্কোয়াডের ‘ পান্না প্রমুখে’ রা।এরাই গুজরাটে ভূমিকম্পের পর ত্রাণ বিলির নাম করে হিন্দু পাড়া আর মুসলিম পাড়ার বিভাজনটা প্রথম করেছিল।পরবর্তীকালে মোদির মুখ্যমন্ত্রীত্বকালে ‘ গুজরাট গণহত্যা’ র সময়ে সেই তালিকা ধরে তান্ডব চালিয়েছিল আর এস এস সহ গোটা হিন্দুত্ববাদী শিবির। আদিত্যনাথের সরকারের প্রশাসনিক অব্যবস্থার ফলে আমজনতার ভিতরে বিজেপি সম্পর্কে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা দূর করবার উদ্দেশে এই ‘ পান্না প্রমুখ’ দের কার্যকর করবার কথা আর এস এস মুখে বললেও , সঙ্ঘের অসাধু উদ্দেশ্য নিয়ে একটা প্রবল আশঙ্কা কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।ভোট কে কেন্দ্র করে বিভাজনের রাজনীতি আর সেই রাজনীতির চরম প্রয়োগ হিশেবে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা – এটা গোটা হিন্দুত্ববাদী শিবিরের চিরন্তন কৌশল।সেই কৌশলকে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ভাবে প্রয়োগ করবার উদ্দেশে আর এস এস উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার ভোটের অনেক আগে থেকেই কি এই ‘ পান্না প্রমুখ’ দের পথে নামিয়ে দিলো? পরে প্রয়োজন মতো সঙ্ঘের এই গোপন স্কোয়াডের মাধ্যমে ভোটের ঠিক মুখোমুখি সময়ে দাঙ্গা লাগিয়ে , তার ফসল বিজেপির পক্ষে ভোটের ঝুলিতে ভরতে চায় আর এস এস?

Spread the word

Leave a Reply