মানুষের মৌলিক সমস্যাগুলি থেকে নজর ঘোরানোর জন্যই বিভাজনের রাজনীতির আশ্রয় নিয়েছে তৃণমূল এবং বিজেপি সূর্য মিশ্র

May 23rd, 2019 [IST]

গত রবিবার রাজ্যের বিভিন্ন জায়াগায় রামনবমীর অস্ত্রমিছিলকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে।এই বছরে বিজেপি এবং তৃণমূল পাল্লা দিয়ে অংশ নিয়েছে রামনবমীর মিছিলে। সোমবার সি পি আই (এম) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক সূর্য মিশ্র কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, স্বাধীনতা এবং দেশভাগের পরবর্তী সময় আমাদের রাজ্যে এই রকমের সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ, প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকতা এবং রাজনৈতিক উদ্দ্যেশ্যে মানুষে মানুষে বিভাজনের ঘটনা ঘটেনি। দেশ এবং রাজ্যের সরকার রাজনৈতিক ফায়দার জন্য উস্কানি দিচ্ছে এই ঘটনাকে, রাজ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। এর আগে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ বা ধর্মনিরপেক্ষতার উপর আক্রমণ নামানোর প্রচেষ্টা চালালে মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছেন, কিন্তু মানুষের সেই ঐক্য ভেঙে দিয়ে চেষ্টা করছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার।

গতবছরেও রামনবমীর দিনে অস্ত্রমিছিলের স্বাক্ষী থেকেছে গোটা রাজ্য। এমনকি শিশু এবং মহিলাদের হাতেও তুলে দেওয়া হয়েছিল অস্ত্র। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, অস্ত্র নিয়ে মিছিল করা যাবে না, কিন্তু তার পরেও অস্ত্র মিছিল হয়েছে এই বছর। উল্টে এইবছরের মিছিলে অংশ নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও। এই ঘটনাকে স্বাগত জানানো হয়েছে আর এস এস এর পক্ষ থেকেও। আলিপুরদুয়ারে তৃণমূল এবং বিজেপি নেতৃত্ব একই সাথে হেঁটেছেন রামনবমীর মিছিলে।

সূর্য মিশ্র আরও জানান, তৃণমূল নিজে এই বছর রামনবমী পালনের আয়োজন করেছে, আর এস এস, বি জে পি সহ বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলিকে মাঠ ছেড়ে দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। যার ফলে রাজ্যের বিভিন্ন যায়গায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার ঘটনা আমরা দেখেছি। উত্তর ২৪ পরগণার বি টি রোড� ধরে সাশক দলের বিধায়কের নেতৃত্বে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে কিছু খবর এলেও অনেক খবরই সংবাদমাধ্যমে দেখানো হয়নি। প্রশাসনের তরফেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে সকল খবর সম্প্রসারনের ক্ষেত্রে। রামনবমীকে কেন্দ্র করে ২ জনের মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে।সূর্য মিশ্র এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের জানান, এই সকল ঘটনা বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে কলঙ্কিত করেছে, রামনবমী নিয়ে এরকম হতে পারে, তা ভাবা যায় না। তিনি আরও বলেন, যে এই রামনবমীর সাথে রামায়নের কোনো মিল নেই। একদিকে রামনবমী পালনের মধ্যে দিয়ে রামায়নের মত মহাকাব্যকে কলঙ্কিত করা হচ্ছে, আরেকদিকে ইতিহাসের সাথে পুরানকে এক করার চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্র এবং রাজ্যের সরকার।

মিশ্র সাংবাদিকদের আরও জানান, বামপন্থীরা সরকারে থাকার সময় এই ধরনের ঘটনা ঘটার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই পরস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হত। কিন্তু তৃণমূল সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত ভাবে বিভাজনের রাজনীতিকে তীব্র করছে। মানুষের জীবন জীবিকার উপর আক্রমণ, মানুষের মৌলিক সমস্যাগুলি থেকে নজর ঘোরানোর জন্যই বিভাজনের রাজনীতির আশ্রয় নিয়েছে তৃণমূল এবং বিজেপি।

সূর্য মিশ্র সরকারের কাছে দাবী জানান, -

১)অবিলম্বে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে।

২) যাদের নেতৃত্বে রাজ্যব্যাপী এই সাম্প্রদায়িক উস্কানির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, দলমত নির্বিশেষে তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে।

৩) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকতে হবে সরকারকে।

দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষকে এই বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নামার জন্য এবং মানুষের জনজীবনের আন্দোলনকে আরও তীব্র করে মেহনতি মানুষের ঐক্য আরও শক্তিশালী করার জন্য আবেদন জানান সূর্য মিশ্র।