৯ ঘন্টা বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখা হলো সি পি আই (এম) কর্মী হীরু লেটকে

May 23rd, 2019 [IST]

পিজি (এস এস কে এম) হাসপাতলে নিয়ে আসার পর প্রায় ৯ঘন্টা বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখায় সঙ্কটজনক অবস্থায় রয়েছেন বৃহস্পতিবার নলহাটির ঘটনায় গুরুতর আহত সি পি আই (এম) কর্মী হীরু লেট। শুক্রবার তাঁকে বাধ্য হয়ে বিধাননগরের একটি বেসরকারী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখন তাঁকে আই সি সি ইউ-তে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সি পি আই (এম) রাজ্য সম্পাদক সূর্য মিশ্র। তিনি এদিন বলেন, নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের আক্রমণে যারা আহত হচ্ছেন, তাঁদের চিকিৎসার কী কোনও দায়িত্ব নেই রাজ্য সরকারের? মিশ্র বলেন, বিনা চিকিৎসায় এরকম গুরুতর আহত একজনকে ফেলে রাখা হলো কেন? এর পিছনে কী ওপরতলার কোনও নির্দেশ ছিল?  

বৃহস্পতিবার নলহাটি-১ ব্লক অফিসে পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাওয়ার সময় তৃণমূলী দুষ্কৃতীদের আক্রমণে গুরুতর আহত হন হীরু লেট। একই মিছিলে আহত হন সি পি আই (এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও প্রাক্তন সাংসদ ডা: রামচন্দ্র ডোমসহ আরো কয়েকজন। ওই মিছিলের পিছনদিকে ছিলেন হীরু লেট। দুষ্কৃতীরা তাঁকে পিছন থেকে বোমা মারে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তৃণমূলী দুষ্কৃতীরা তাঁকে নির্মমভাবে পেটায়। আক্রমণে তাঁর মুখের ডানদিকের সবকটি হাড় ভেঙে যায় এবং গলা ও মাথায় তিনি চোট পান। 

রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে পড়ে থাকতে দেখে বিডিও অফিসের কর্মীরা একটি গ্যারেজের মধ্যে নিয়ে যায় এবং তাঁর ছেলের হাতে কিছু টাকা দিয়ে নলহাটি হাসপাতালে না নিয়ে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। সি পি আই (এম) কর্মীরা আহত হীরু লেটকে নিয়ে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পিজি হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসকরা। শুক্রবার ভোর ৫-২০মিনিট নাগাদ হীরু লেটকে পিজি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সঙ্গে ছিলেন নলহাটির স্থানীয় পার্টিকর্মীরা ও হীরু লেটের ভাই সুভাষ লেট, ছেলে প্রভাস লেট। কিন্তু এখানে জরুরী বিভাগের বাইরে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ ভর্তি না করে ফেলে রাখা হয়। বলা হয় প্লস্টিক সার্জারি করা হবে, কিন্তু বেড খালি নেই। প্রায় ৯ঘন্টা এভাবে পড়ে থাকায় তাঁর শ্বাসকষ্ট হতে থাকে এবং অবস্থার আরো অবনতি হতে থাকে। দুপুর আড়াইটা নাগাদ শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই পরিবারের সকলে সিদ্ধান্ত নিয়ে বিধাননগরের একটি বেসরকারী হাসপাতালে তাঁকে নিয়ে যায়। সেখানে আই সি সি ইউ-তে তাঁকে রাখা হয়েছে। সি পি আই (এম)-র পক্ষ থেকে তাঁর চিকিৎসার খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।