বাধা-বিপত্তি মোকাবিলা করেই মনোনয়ন বামেদের

May 23rd, 2019 [IST]

নির্বাচন চললেও পালিত হবে মে দিবসঃ সূর্যকান্ত মিশ্র

ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে তৃণমূলঃ মহম্মদ সেলিম

ফ্যাসিস্ট কায়দায় লুট মানুষের অধিকারঃ সুজন চক্রবর্তী

রাজ্যজুড়ে জ্বলছে সাম্প্রদায়িকতার আগুন। নেপথ্যে আর এস এস এবং বিজেপি-র মদতে রামনবমী পালনের নামে তাণ্ডব, যার মোকাবিলা করতে পুরোপুরি ব্যর্থ তৃণমূল সরকার। সেই ব্যর্থতা থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই একপেশেভাবে পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন ঘোষণা করে দিয়েছে রাজ্য সরকার এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ফলে, দিন ঘোষণার সময় থেকেই কার্যত প্রহসনে পরিণত হয়েছে পঞ্চায়েত নির্বাচন। ২০১৩ সালের পর আরও একবার। যে প্রসঙ্গে সি পি আই (এম) সাংসদ মহম্মদ সেলিম বলেছেন, “১৯৭৮ সালে এরাজ্যে মানুষের জন্য ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ভোটের ব্যবস্থা করেছিল বামফ্রন্ট সরকার। গ্রামবাংলার উন্নয়নের হাতিয়ার পঞ্চায়েত ছিল গরীব মানুষের হাতে। ২০১৩ সালে লুট হয়েছে ভোট, আক্রান্ত হয়েছেন নির্বাচিত সদস্যরা। চার দশক আগে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মধ্য দিয়ে যে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল তাকে ধ্বংস করেছে তৃণমূল।“ সোমবারই মনোনয়ন পেশ করতে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আক্রান্ত হয়েছেন বাম নেতা ও কর্মীরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রমণ হয়েছে অনুব্রত মণ্ডলের খাসতালুক বীরভূমে। তবে বাধা-বিপত্তি সামলে বেশিরভাগ জায়গাতেই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বামেরা।

প্রসঙ্গত, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বহু জায়গায় জোর করে বামেদের প্রার্থী দিতে দেয়নি শাসক দল। নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করে দখল করেছিল বেশিরভাগ পঞ্চায়েত। এবারও তারই পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। যে প্রসঙ্গে বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, “পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গণতন্ত্রকে নিয়ে ছেলেখেলা করা হচ্ছে। ৬০ হাজার বুথ, ৬০ হাজার প্রার্থী। মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্য যা সময় দেওয়া হয়েছে তার চেয়ে বেশি সময় দেওয়া হয়েছে মনোনয়ন তুলে নেওয়ার জন্য। কোনও শংসাপত্র দেওয়া হচ্ছে না। কোনও কেন্দ্রীয় বাহিনী নেই। রাজ্য নির্বাচন কমিশন নিজেদের হাস্যস্পদ করে তুলেছে। ফ্যাসিস্ট কায়দায় ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে মানুষের অধিকার। আসলে মমতা ভয় পেয়েছেন। লড়াইয়ের জন্য আমরা প্রস্তুত।“

তার ওপর, ১লা মে নির্বাচনের দিন হিসাবে ঘোষণা হওয়ায় প্রবল ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বাম শিবিরে। যে প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে সি পি আই (এম) রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেছেন, “হয়তো জ্যোতিষী বলেছেন বলে ১লা মে নির্বাচনের দিন হিসাবে ধার্য করা হয়েছে। কিন্তু মে দিবস ১লা মে-ই পালিত হবে। যে দূর্গে উনি থাকেন তার ওপরেই লাল পতাকা উড়বে।“